September 2026


 সখীপুরে ৩ বছরের শিশুকে হত্যা করল এক পাষন্ড মা


নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাড়ে ৩ বছরের শিশু আশরাফুলকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আকলিমা(৩৫) বেগম নামের এক পাষন্ড মায়ের বিরুদ্ধে। এসময় অভিযুক্ত আকলিমা  সিদরাতুল(৮) নামে তাঁর আরেক শিশুকে কুপিয়ে  গুরুতর আহত করেন।



বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার খালিয়ার বাইদ (মুজিবনগর মোড়) এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।



নিহত আশরাফুলের বয়স প্রায় সাড়ে ৩ বছর। আহত সিদরাতুল আকলিমা বেগমের আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে সখীপুর থানা পুলিশ আকলিমা বেগমকে হেফাজতে নেয়।



স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, শাহীন মিয়া প্রায় ৩০ বছর আগে প্রথম বিয়ে করেন। ওই সংসারে কোনো সন্তান না থাকায় পরবর্তীতে প্রথম স্ত্রীর সহযোগিতায় আকলিমা নামের এক স্বামী পরিত্যক্তা মহিলাকে সিদরাতুল নামের এক বাচ্চাসহ বিয়ে করে ঘরে তুলে আনেন। দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমা বেগম সিদরাতুল নামে এক মেয়েকে নিয়ে স্বামীর ঘর করতে থাকেন। এরপর আকলিমার ঘরে জন্ম নেয়  আশরাফুল নামের আরেক এক ফুটফুটে শিশু।



তবে আকলিমা বেগম বেশিরভাগ সময় ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি করায় বাড়িতে থাকতেন না। এ কারণে আশরাফুলকে শাহীন মিয়ার প্রথম স্ত্রী(নাসিমা) যাকে শিশুটি ‘বড়মা’ বলে ডাকত, লালন-পালন করতেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আশরাফুল নিজের মাকেও ‘আন্টি’ বলে ডাকত।



স্থানীয় কয়েকজন জানান, শিশুটি নিজের মাকে ‘আন্টি’ বলে ডাকায় আকলিমা বেগমের মনে ক্ষোভ বা অভিমান তৈরি হয়ে থাকতে পারে। সেই ক্ষোভ থেকেই এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।



 তবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের মধ্যে কোনো পারিবারিক কলহ ছিল না। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।



ঘটনার বিষয়ে শাহীন মিয়া বলেন, “প্রায় ৩০ বছর পর আল্লাহ আমাকে একটি পুত্রসন্তান দান করেছিলেন। সেই সন্তানকে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। এটা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। শুধু আমার সন্তানই নয়, আকলিমার আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে সিদরাতুলকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”



ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মাত্র সাড়ে ৩ বছরের শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।



এ বিষয়ে জানতে চাইলে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল সখীপুর ও ভালুকা থানার মধ্যবর্তী এলাকায়। ঘটনার পর শিশুটিকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল, তার লাশ ওখানেই রয়েছে। এদিকে নিরাপত্তা ও চিকিৎসার স্বার্থে শিশুটির মাকে সখীপুর থানা-পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।



 বাবার অপেক্ষায় সাত মাসের যমজ, সৌদি থেকে নাছির ফিরলেন নিথর দেহে


সখীপুর প্রতিবেদক: সাত মাস বয়সী যমজ সন্তান আদনান ও নুসাইবা। জন্মের পর বাবাকে তারা দেখেছে শুধু মোবাইল ফোনের পর্দায়। দেশে ফিরে সন্তানদের কোলে নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন বাবা নাছির হোসেন (২৫)। তবে সেই অপেক্ষা আর শেষ হলো না। সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নাছির ফিরেছেন নিথর দেহ হয়ে।


নাছির টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কুতুবপুর আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা। গত ৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার দিকে সৌদি আরবে সড়ক নির্মাণকাজের সময় রোড রোলারের চাপায় তার মৃত্যু হয়।


পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান নাছির। পরিবারের সচ্ছলতার আশায় প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন তিনি। কয়েক মাস আগে ছুটিতে দেশে এসে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবার সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফিরে যান। এরপর তার স্ত্রী আছিয়া খাতুনের ঘরে জন্ম নেয় যমজ সন্তান—একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। সন্তানদের জন্মের সময় নাছির সৌদি আরবে থাকায় সরাসরি তাদের দেখার সুযোগ হয়নি।


স্বজনরা জানান, নিয়মিত ভিডিও কলে স্ত্রী ও সন্তানদের খোঁজ নিতেন নাছির। মোবাইল ফোনের পর্দায় সন্তানদের দেখে আনন্দিত হলেও তাদের কোলে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল তার। দেশে ফিরে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু দুর্ঘটনা সেই স্বপ্নের ইতি টেনে দেয়।


নাছিরের বাবা শফিকুল ইসলাম স্থানীয় বাজারে একটি চায়ের দোকান চালান। ছয় বছর আগে অনেক কষ্টে ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন নাছির। তার আয় দিয়েই চলত পরিবারের খরচ।


কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে নাছিরের বাবা শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার একমাত্র সন্তানকে নিজের হাতে দাফন করে গেলাম। আজ আমি একেবারে নিঃস্ব। অনেক কষ্ট করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম পরিবারের সুখের আশায়। কিন্তু সেই ছেলেকেই আজ লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরতে হলো।”


পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাছিরের মরদেহ গতকাল (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে পৌঁছায়। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর মা-বাবা, স্ত্রী ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। খবর পেয়ে স্থানীয়রাও নাছিরের বাড়িতে ছুটে আসেন।


পরে রাত ১১টার পর নাছিরের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।


 সখীপুরে ঘুমন্ত নারীর কানের দুল চুরি! 

নিজস্ব সংবাদদাতা:


সখীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাহারতা এলাকায় গভীর রাতে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত নারীর কান থেকে এক জোড়া কানের দুল, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও একটি ব্রিফকেস চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় চোরেরা তাদের পায়ের জুতা ঘটনা স্থলে ফেলে যায়।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ছামান মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।


ছামান মিয়ার স্ত্রী জানান, তিনি তার মেয়েকে নিয়ে খাটে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হঠাৎ তার কানে টান অনুভব করলে তিনি ভয়ে চিৎকার করে ওঠেন। এ সময় দেখতে পান, দুই ব্যক্তি খাট থেকে নেমে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। তিনি তাদের পিছু নিলেও ধরতে পারেননি। পালানোর সময় চোরেরা তাদের জুতা ফেলে যায়।


তিনি আরও জানান, বাইরে থেকে দরজার পাশে ছিদ্র করে চোরেরা দরজা খুলে ঘরে ঢুকেছিল। পরে ঘুমন্ত অবস্থায় এক জোড়া কানের দুল, নগদ ১০ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন ও একটি ব্রিফকেস নিয়ে যায় চোরচক্র।


ঘটনার পর এলাকায় চোর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুরাদ হোসেন জানান, এ বিষয়ে কেউ থানায় অবহিত করেনি। অবহিত করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


 বাসাইল হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে এসে এক নারীর মোবাইল ও ১০ হাজার টাকা চুরি


নিজস্ব প্রতিবেদক : 

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার দেখাতে এসে এক নারীর মোবাইল ও ১০ হাজার টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকিট কাউন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। 


এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী সাদিক খান বাসাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তিনি উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের সেহরাইল গ্রামের বাসিন্দা। 



জানা গেছে, সাদিক খানের স্ত্রী বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার দেখানোর জন্য টিকিট কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়ান। এসময় ৪ থেকে ৫জন নারী তার সাথে কথোপকথন শুরু করেন। এক পর্যায়ে ওই নারীকে সামনের দিকে ধাক্কা দেওয়া হয়। এসময় কৌশলে ওই নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি মোবাইল ও ১০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায় তারা। পরে তিনি ডাক্তারের কক্ষে গিয়ে বিষয়টি বুঝতে পারেন। এক পর্যায়ে তিনি কান্নাকাটি করে বাড়িতে ফিরে যান। এ ঘটনায় তার স্বামী সাদিক খান বাসাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। 



এদিকে, হাসপাতালে এত সিসি ক্যামেরা ও আনসার সদস্য থাকার পরও চুরির ঘটনা ঘটায় ভূক্তভোগী ও সচেতন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

MKRdezign

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget