বাবার অপেক্ষায় সাত মাসের যমজ, সৌদি থেকে নাছির ফিরলেন নিথর দেহে


 বাবার অপেক্ষায় সাত মাসের যমজ, সৌদি থেকে নাছির ফিরলেন নিথর দেহে


সখীপুর প্রতিবেদক: সাত মাস বয়সী যমজ সন্তান আদনান ও নুসাইবা। জন্মের পর বাবাকে তারা দেখেছে শুধু মোবাইল ফোনের পর্দায়। দেশে ফিরে সন্তানদের কোলে নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন বাবা নাছির হোসেন (২৫)। তবে সেই অপেক্ষা আর শেষ হলো না। সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নাছির ফিরেছেন নিথর দেহ হয়ে।


নাছির টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কুতুবপুর আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা। গত ৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার দিকে সৌদি আরবে সড়ক নির্মাণকাজের সময় রোড রোলারের চাপায় তার মৃত্যু হয়।


পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান নাছির। পরিবারের সচ্ছলতার আশায় প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন তিনি। কয়েক মাস আগে ছুটিতে দেশে এসে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবার সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফিরে যান। এরপর তার স্ত্রী আছিয়া খাতুনের ঘরে জন্ম নেয় যমজ সন্তান—একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। সন্তানদের জন্মের সময় নাছির সৌদি আরবে থাকায় সরাসরি তাদের দেখার সুযোগ হয়নি।


স্বজনরা জানান, নিয়মিত ভিডিও কলে স্ত্রী ও সন্তানদের খোঁজ নিতেন নাছির। মোবাইল ফোনের পর্দায় সন্তানদের দেখে আনন্দিত হলেও তাদের কোলে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল তার। দেশে ফিরে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু দুর্ঘটনা সেই স্বপ্নের ইতি টেনে দেয়।


নাছিরের বাবা শফিকুল ইসলাম স্থানীয় বাজারে একটি চায়ের দোকান চালান। ছয় বছর আগে অনেক কষ্টে ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন নাছির। তার আয় দিয়েই চলত পরিবারের খরচ।


কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে নাছিরের বাবা শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার একমাত্র সন্তানকে নিজের হাতে দাফন করে গেলাম। আজ আমি একেবারে নিঃস্ব। অনেক কষ্ট করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম পরিবারের সুখের আশায়। কিন্তু সেই ছেলেকেই আজ লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরতে হলো।”


পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাছিরের মরদেহ গতকাল (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে পৌঁছায়। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর মা-বাবা, স্ত্রী ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। খবর পেয়ে স্থানীয়রাও নাছিরের বাড়িতে ছুটে আসেন।


পরে রাত ১১টার পর নাছিরের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

Post a Comment

[blogger]

MKRdezign

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget